আন্তর্জাতিক

তিমির বমি কেন অনেক মূল্যবান? তিমির বমি কি কাজে লাগে?

1 min read

তিমির বমি অনেক মূল্যবান কেন?

আন্তর্জাতিকভাবে তিমির বমির নাম অ্যাম্বারগ্রিস (ambergris)। ফরাসি শব্দ অ্যাম্বার (amber) আর গ্রিস মিলে ইংরেজি অ্যাম্বারগ্রিস শব্দটি এসেছে। মূলত, স্পার্ম তিমির পেটে তৈরি হয় এই অ্যাম্বারগ্রিস।

কালোবাজারে অ্যাম্বারগ্রিসের চাহিদা অনেক। যে কারণে অ্যম্বারগ্রিস পাচারে অনেক  আন্তর্জাতিক চক্রও জড়িত রয়েছে।

২০২৩ সালের ১৮ মে ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ুর  তুতিকোরিন উপকূলে তল্লাশি চালালে তিমির বমি পাচারকারী একটি চক্রের ৫ সদস্য ধরা পড়ে। তাদের কাছ থেকে তিমির ১৮ কেজি ১০০ গ্রাম বমি বা অ্যাম্বারগ্রিস জব্দ করা হয়, যার বর্তমান বাজারদর বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ কোটি ৮৮ লাখ + টাকা!

অর্থাৎ কালোবাজারে বর্তমানে তিমির এক কেজি বমির দাম ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি!

স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, তিমির বমি কি কাজে লাগে? তিমির বমির এতো দাম কেন?

যে কাজে ব্যবহৃত হয় তিমির বমি

American Oceans থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিমি মাছের বমি বা অ্যাম্বারগ্রিস ওষুধ আর সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয় । বিশ্বের দামি দামি সুগন্ধির সতেজতার নেপথ্যে রয়েছে এটি। দুষ্প্রাপ্য পদার্থটি সুগন্ধির সুবাস বৃদ্ধি করে এবং সংরক্ষণ করে। সুগন্ধিতে ব্যাপক চাহিদার পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতেও এই অ্যাম্বারগ্রিস কার্যকরী। প্রচলিত চীনা ওষুধে ব্যবহৃত এটি। যে কারণে বিশ্ববাজারে এর কদর বা চাহিদা আকাশচুম্বী।

তিমির বমি বা অ্যাম্বারগ্রিস সম্পর্কে আরও বিস্তারিতঃ

অ্যাম্বারগ্রিস অবশ্য খাবারের কোনো উপকরণ নয়। এরপরও একে খাদ্য মশলা হিসেবে ব্যবহারের কথা শোনা যায়। তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যেহেতু এটি তিমির পাচনতন্ত্রে সৃষ্টি হয়, এতে  বিপজ্জনক অণুজীব থাকে। তাই এটি মানুষের খাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়।

তিমির বমি বা অ্যাম্বারগ্রিসের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে Floating Gold: A Natural and (Unnatural) history of Ambergris। ক্রিস্টোফার কেম্প বইটির লেখক । তিনি একজন ইংরেজ বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান বিষয়ে সাংবাদিকতা করেন। বর্তমানে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কাজ করছেন তিনি।

ক্রিস্টোফার জানিয়েছেন, কীভাবে অ্যাম্বারগ্রিস তৈরি হয় আর তা সৈকতে ভেসে আসে।

বইতে এ বিজ্ঞানী লিখেছেন, মূলত স্পার্ম তিমির পাকস্থলিতে মহামূল্যবান এই অ্যাম্বারগ্রিস তৈরি হয়। এটি তৈরি হতে অনেক সময় লেগে যায়। এ সময়টা বছরের বেশিও হতে পারে। স্পার্ম তিমি হাজার হাজার স্কুইড খায়। এসব স্কুইডগুলোর মধ্যে অনেকগুলো হজম হয় না। এগুলো পাকস্থলি ও অন্ত্রের মাঝখানের জায়গায় গিয়ে জমা হতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে জমা পড়ে থাকতে থাকতে আর তিমির অন্ত্রের বিভিন্ন রাসায়নিকে এসব স্কুইড অ্যাম্বারগ্রিসে পরিণত হয়। স্পার্ম তিমি পরে তা মুখ দিয়ে বের করে দেয়।

ক্রিস্টোফার জানান, অ্যাম্বারগ্রিস প্রথম অবস্থায় মোমের মতো পিচ্ছিল হয়। তিমির মুখ দিয়ে বের হওয়ার সময় দুর্গন্ধযুক্ত থাকে। তবে সমুদ্রের নোনা জলের সংস্পর্ষে আর ঢেউয়ে ঢেউয়ে তীরে ভেড়ার পথে এর দুর্গন্ধটা চলে যায়, সুগন্ধ ছড়াতে থাকে। এটি শক্ত দলায় রূপ নেয়। শুকিয়ে গেলে এটি পাথরের মতো রূক্ষ হয়ে যায়।

অ্যাম্বারগ্রিসকে অবশ্য তিমির বমি বলতে রাজি নন ক্রিস্টোফার। কারণ, কোনো খাবার খাওয়ার পর তা হজম না হয়ে মুখ দিয়ে বের হলে তাকে বমি বলে। খাবার খাওয়ার সঙ্গে বমির ঘটনার সময়টা খুব বেশি নয়। কিন্তু স্পার্ম তিমির পাকস্থলিতে অ্যাম্বারগ্রিস তৈরি হতে বছর পেরিয়ে যায়।

যদিও অ্যাম্বারগ্রিস হাজার বছর ধরে সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর ব্যবহার কমে গেছে।

এর অন্যতম কারণ দুষ্প্রাপ্যতা, ব্যয়বহুল। তার ওপর রয়েছে আইনি প্রতিবন্ধকতা। অনেক দেশে স্পার্ম তিমি শিকার নিষিদ্ধ, এবং তাদের থেকে তৈরি পণ্যের ব্যবসায় কঠোর বিধান রয়েছে।

তাই অ্যাম্বারগ্রিস বর্তমানে মূল্যবান এবং বিরল উপাদান হিসাবে বিবেচিত হয়। অনেক সুগন্ধি প্রস্তুতকারক কারখানা অ্যাম্বারগ্রিসের বিকল্প অনুসন্ধান করছে।

বর্তমানে তিমির বমি বা অ্যাম্বারগ্রিস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেক আলোচনা হচ্ছে!

তথ্য সংগ্রহঃ বাংলা নিউজ ২৪ 

#তিমির_বমি #অ্যাম্বারগ্রিস #Update.com.bd

 

 

5/5 - (3 votes)
admin

Leave a Comment