প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়া করে প্রেমিকা নাহিদা খাতুন (১৮) আত্মহত্যা করেন। প্রেমিকার মরদেহ দেখে প্রেমিক জাকারিয়া হাসপাতালের চতুর্থতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

দুই হাঁটু ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রেমিক জাকারিয়া হাসান (২০) কুষ্টিয়া জেলা সদরের দহকুলা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।

আর বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে মারা যাওয়া প্রেমিকা নাহিদা খাতুন জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার রায়কালী গ্রামের আক্তার হোসেন বাবুর মেয়ে এবং বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

 

পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন আগে ফেসবুকে তাদের পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের একপর্যায়ে প্রেমের সস্পর্কে রূপ নেয়। প্রেমিক জাকারিয়া হাসান রবিবার কুষ্টিয়া থেকে বগুড়ায় এসে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করেন।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। নাহিদা বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে লেখাপড়া করার কারণে শহরের বৃন্দাবন পাড়ায় সানজিদা ছাত্রী নিবাসে বসবাস করেন। ছাত্রী নিবাসে ফিরে নাহিদা মনের ক্ষোভে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে বান্ধবীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রেমিক জাকারিয়াকেও খবর দেন তার বান্ধবীরা। খবর পেয়ে জাকারিয়া ছুটে যান হাসপাতালে।
নাহিদার পরিবারের সদস্যরাও সন্ধ্যার মধ্যেই হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মারা যান নাহিদা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থতলা থেকে লাফিয়ে পড়েন জাকারিয়া।
খবর পেয়ে মেডিকেল ফাঁড়ি পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
তার দুই পায়ের হাঁটু ভেঙে যাওয়া ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রেমিক-প্রেমিকা ঝগড়া করে একজন আত্মহত্যা করেছেন। আরেকজন আত্মহত্যার উদ্দ্যেশে চতুর্থতলা থেকে লাফিয়ে নিচে পড়লেও প্রাণে বেঁচে গেছেন। নাহিদার মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *